Did not buy snow boot yet

find us online

Did not buy snow boot yet



স্নো বুটটা এখনো কেনা হয়নি। কিনব কিনব করেই কেনা হয়নি। এর মধ্যে নামল উথাল পিথাল তুষার ঝড়। কানাডার শীত এইবার ৫৭ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে। রেকর্ড টেকর্ড বুঝিনা । আমাকে বেরিয়ে পড়তে হয় ৬টায়, সকালের আলো ফোটার আগেই। প্রতিদিন -২০র ঋণাত্মক তাপমাত্রায় শীতের কামড় খেয়ে, দাঁত ঠকঠকিয়ে কাঁপতে কাঁপতে কফির ফ্লাক্সটা হাতে নিয়ে দাঁড়াই ভিক্টোরিয়া পার্ক স্টেশনে। আমি একা নই। চারদিক গুজ গুজ ফুস ফুস । অফিসযাত্রীদের কুশল বিনিময়ের আওয়াজ। কারো কারো রেগুলার পার্টনার জুটে গেছে দু'য়েকজন। অফিস পর্যন্ত দু'জনে শীতের গুষ্টি কিলাতে কিলাতে যায়। নিজের দেশে ওরা কে কত ভাল ছিল, সেই গল্পই শুধু করে। আমি গল্প করি না। মুখ গুঁজে ফেসবুকে দেশের হাল হক্বিকৎ দেখি। ডিএমপি কমিশনার বলেছেন নতুন বছরে বাসায় পার্টি করতে হলে পুলিশের অনুমতি নিতে হবে- সেই খেলো খবরটাই দেখি। গুম টুমের নিউজ দেখলে আজকাল টপকে যাই। ক্রসফায়ারের মত এই ফেনোমেনাও এখন বাসি হয়ে গেছে।

পাশের সীটের লোকটা ইন্ডিয়ান। আমি চিনি। অন্য কোনদিন দেখেছি। বড্ড চাপা পেটায়। সকালবেলা আমার মৌণব্রত। তাই মুখগুঁজে ফেসবুকই করি। আমাকে হিন্দিভাষী ঠাউরে লোকটা কী জানি সব বকে যায়। বিরাট আর আনুশকার বিয়ে নিয়ে কথা বলে। কয়দিন টিকবে, এই বিষয়ে ছোটখাট একটা লেকচারও দেয়। সাথে জানিয়ে দেয় ডিভোর্সের সন তারিখ। একেবারে কিরোর মতো ভবিষ্যৎদ্রষ্টা। শুধু মাথা দুলিয়েছি, কানে অতো যায়নি। কারণ আমি তখন ফ্রিতে পাওয়া বিজ্ঞাপনের কাগজে মন দিয়ে চোখ বুলাচ্ছি সস্তা টাইপের একটা বুট কেনার জন্য। কাজী ভাই বলেছিল টিম্বারল্যান্ডের বুট কিনতে। টিম্বারল্যান্ড নিয়ে ঊনি স্যাটিসফাইড। খোশ মেজাজে বিক্রয় প্রতিনিধির মতো চোখ বুঁজে আউড়ে গেছেন সব গুনাগুণ। তার মতে এই বুটে পপাৎ ধরনীতল হওয়ার ভয় নেই গোটা সিজন; পরীক্ষিত। কিন্তু গবেষকরা বলছে ভিন্ন কথা। আছাড়-প্রুফ জুতো নাকি তৈরী হয়নি এখনো - দাম যতই হোক। গবেষকদের কথাতো আর ফেলে দেয়া যায় না। তাই অযথা পয়সা না ঢেলে কমদামে স্নোবুটের মত দেখতে হয় এমন কিছু একটা পেলেই কিনে নেব।

আমার ঘর হতে স্টেশনের দূরত্ব বিশ হাত, তার জন্য স্নো বুট লাগে না। স্নোবুট লাগে ঘোরাঘুরির জন্য। আমি বিবাগী মানুষ। যেদিন ঘুমাই - ঘুমিয়েই কাটাই। আর যেদিন ঘুরতে বেরুই, সেদিন পথ ধরে পাঁচ-সাত মাইল না হাঁটলে প্রাণ জুড়ায় না। টরন্টো শহরটা আমার ফেলে আসা ফোর্ট কলিন্সের মতো নয়। আশেপাশে পাহাড় নেই, শহর ছাড়লেই রকি মাউন্টেনের চূড়া দেখা যায় না, বরফ গলা নদী নেই। এতোসব নেই নেই করেও অনেক কিছুই আছে। তার মধ্যে আছে হলো একটা ট্রেইল। নাম টেইলর ক্রিক ট্রেইল। শহরের ঘুপচিতে এমন আস্ত একটা জংগল লুকিয়ে থাকতে পারে, এই ট্রেইল না দেখলে বুঝতামই না। সেখানে বুনো গাছপালা আছে, আধানোংরা হলেও একটা ঝিরি আছে, কেউ কেউ নাকি বুনোপ্রাণীও দেখেছে সেখানে। কী জানি বাপু ! প্রাণী বলতে তো আমি তিনকাল পেরুনো বুড়োদেরই দেখি কুকুর নিয়ে হাঁটতে।

দেখি বলতে, দেখতাম। তুষার যুগের আগে।আজকাল তুষারে ঢেকে গেছে ট্রেইলটা। তাতে অবশ্য আমার ক্ষতি বৃদ্ধি হয়নি। প্রকৃতির একেক সময় একেক রূপ। বেহেশতের হুরপরীদের মতো অনন্তযৌবনা, মায়বিনি, কুহকিনি প্রকৃতি। সেই কুহক আমাকে ডেকে নিয়ে যায় ট্রেইলে। হোক বর্ষা কি হোক তুষার ঝড়, হোক সন্ধ্যা কিংবা মধ্যরাত, মাথায় ক্যারা উঠলে ট্রেইলে আমি যাবই। পা হড়কে হড়কে একা একা হেঁটে আসি অনেকটা পথ।পুরো পথ এক হাঁটুু তুষারের নিচে ডুবে গেছে। মনে হয়, গোটা এক হালি সাইবেরিয়ান হাস্কি পেলে মন্দ হতো না। চাবুক দাবড়ে এই জংগলে স্লেজ রেস দিতাম। জংগলের যে ডোবাটা ছিল সেটা জমে বরফ। ওটার উপর দিয়ে অনায়াসে এখন হেঁটে আসা যায় । আমার আড়াই মণ ওজনের শরীরটা নিয়ে হেঁটে এসেছি ক'বার। শুভ্র তুষার বিছানো পথের সৌন্দর্য কাউকে বলে বোঝানো দুষ্কর।

তবে সবচে' যাদুকরি সময়টা হচ্ছে রাতেরবেলা। মানে রাত ১২টার দিকে। নিঝুম রাতের নিকষকালো আঁধারেও তুষার বিছানো পথ জ্বল জ্বল করে। চারিদিক সাদা হয়ে থাকে, আর সেই ধবল তুষার ঠিকরে বেরিয়ে আসে মাটির জোছনা। সেই আলো যেন ডাকে আয় আয় আয়। মাটির জোছনা নাকি চাঁদেরটা- কোনটা বেহতর? আমি হিসেব মেলাতে পারিনা। শুধু জানি এই ডাকে সাড়া না দেয়টা অন্যায়। এই অন্যায় আমার পক্ষে সম্ভবনা। রাত বারটায় বেরিয়ে পড়ি তুষারে পা ডুবিয়ে হাঁটার জন্য।আর যদি তুষার পড়তে থাকে- তাহলে সেই তুষার পড়ার " চিল চিল" শব্দে মন-মগজ শিরশিরিয়ে ওঠে- জীবন এতো সুন্দর হয়?!

আজকে ছুটির দিন। তাই সকাল সকালই ট্রেইলে যাব ভাবছি। কানে হেডফোন গুঁজে নিয়েছি। ফোনে পুরে নিয়েছি সব মনখারাপ করা গান। মন খারাপ করা ভাবটা সবদিন অর্গানিক-ভাবে আসে না। তাই ছিঁচকাঁদুনে গান শুনে তৈরী করতে হয় সিনথেটিক বিষন্নতা। দু:খবিলাসের জন্য আজকাল শচীনকর্তার শরণ নিয়েছি। কানে সামন্তক সিনহা-র গলায় বেজে চলে বিষাদছোঁয়া গান-

"হিয়া তোর অবুঝ টিয়া
খোঁজে কোন সবুজ প্রিয়া
দিতে চাস আমায় ফাঁকি
আমি কি নিয়ে থাকি
মনো দিল না বধু
মনো নিল যে শুধু
আমি কি নিয়ে থাকি।'

বউটা বাসায় নেই ক'দিন থেকে। দু:খবিলাসিতার এইটাই সময়। বাসায় ফিরে প্যান প্যান শুরুর আগেই সব বিলাসিতা সেরে ফেলতে হবে। প্লে লিস্টে এরপরে একে একে বেজে যাবে
সুনন্দ কিরকিরে-র "বাউয়ারে মান দেখনে চালা এক সাপ্না......",
রাগ বাগেশ্রিতে রইস খানে-র সেতার,
তারপরে শ্রীকান্ত আর রাজীব চক্কোত্তির যুগলবন্দীতে "দীপ নিভে গেছে মম"।
গোটা প্লে লিস্ট আমার মুখস্ত।

তবে প্লে লিস্ট পাল্টাতে হবে আজকেই। হাইবিটের ফূর্তি ফূর্তি গান ভরে নিতে হবে সব। কাল থেকে নতুন বছর উদযাপন। ভাই বেরাদারদের নিয়ে প্লান করছি ক্যামনে কি মজা করা যায়। কাজী ভাই নাকি হাঁসের মাংস রান্নায় ওস্তাদ। আরিফ ভাই হচ্ছে গরুর কালাভুনা এক্সপার্ট। আশরাফ ভাইও মিন মিন করে বল্ল ঊনি খুব মজা করে ডিম সেদ্ধ করতে পারেন। আমার আইটেম এখনো লুকিয়ে রেখেছি আস্তিনের তলায়। ঊদরপূর্তি হবে, আড্ডা হবে, ব্যাচেলর পার্টি হবে। এরপর লাউড স্পিকারে সিয়া'র "চিপ থ্রিল" বাজাতে বাজাতে রাত পেরিয়ে যাবে।

তারপর রাতশেষে সেই নতুন বছর, সেই পুরনো স্টেশনে, হাতে সেই কফি ফ্লাক্সের ওম, ভিক্টোরিয়া স্টেশনে সেই একই গুজ গুজ ফুস ফুস। জাস্ট নতুন বোতলে পুরনো মদ। নতুন সব চ্যালেন্জ আর সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখতে দেখতে আবার হেঁটে যাব সেই পুরনো ট্রেইলে। সাথে সেই পাগলাটে সলিটারি থটস। বড়জোর পায়ের ছেঁড়া কেড্সটা পাল্টে এবার একজোড়া নতুন স্নোবুট জুটবে। আমার নতুন বছরের কেরদানি বলতে এটুকুই।

সবাইকে নতুন বছরের বরফ-গোলা(snow-ball) শুভেচ্ছা। সর্বে সত্তা সুখীতা ভবন্তু —জগতের সকল জীব সুখী হোক।
(এইটা ভিডিও ফিচার; তাই কন্টেন্টের সাথে হালকা বর্ণনাও আছে।)


বাউরা মান গানের কথা বাংলায় পেলাম না, পেলাম ইংরেজীতে । দিয়ে দিলাম সেই অনুবাদটা. বাউল এই মন দেখছে শুধু এক স্বপ্ন, গেয়েছেন সানন্দ কিরকিরে।
My crazy heart walks through a dream,
The crazy heart and its crazy dream :-)
This crazy heart and its crazy talks,
Crazy are the throbs of this heart,
Crazy heartbeats with crazy breath,
Crazy are the sleepless moves of the crazy nights,
Crazy are these eyes that wants to stare the craziness through the crazy glass :-)
In this crazy world its looking for a crazy's hand,
In this cunning crowd its looking for just your hand,
Crazy would be the theme and crazy would be the music,
Crazy would be the legs that moving on the crazy words :-)

Crazy would be the darkness and crazy would be the silence,
Crazy would be the darkness and crazy would be the ecstasy,
Crazy would be the veil through which slowly would I see,
A crazy face of my crazy heart :-)
Just love this song and this is a small attempt to share the meaning of this song among the beautiful souls who like it. I hope I gave some justice to this beautiful song

#সস্তা_গদ্য #JAFAR_SADEK
http://facebook.com/rumydu